জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে আজ আপিল করবে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আজ আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করা হবে। আপিল দায়েরের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর প্রসিকিউশন সাজা বাড়াতে আপিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সেদিন প্রসিকিউটর তামিম বলেন, গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সেটি পর্যালোচনা করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৭ নভেম্বর ঘোষিত রায়ে দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি অভিযোগে তাঁদের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এ ছাড়া মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয় নয় দিন পর। আইন অনুযায়ী, রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশন পাঁচটি অভিযোগ আনলেও ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে ছয়টি ঘটনাকে বিচার্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য, একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে উল্লেখ এবং অধীনস্তদের অপরাধে বাধা না দেওয়ার ফলে রংপুরে আন্দোলনকারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এসব ঘটনায় শেখ হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের দমনে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুল ও সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশ গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে এবং আশুলিয়ায় কয়েকজনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসব ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল একই সঙ্গে তাঁদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তা বিতরণের নির্দেশ দেন।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!