সারাদেশ

নরসিংদীতে ভূমিকম্পে বাবা–ছেলেসহ নিহত- ৫

আপডেট: নভে ২১, ২০২৫ : ০৫:৩১ পিএম ১২
নরসিংদীতে ভূমিকম্পে বাবা–ছেলেসহ নিহত- ৫

আহত শতাধিক, ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভবন

নরসিংদীতে সকালে হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বাবা–ছেলেসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। জেলার সদর, পলাশ ও শিবপুরে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।

জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, দুর্গত এলাকায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিভিন্ন টিম মাঠে কাজ করছে। সরকারের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পে জেলাজুড়ে ভবনের আস্তরণ খসে পড়া, দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়া এবং মানুষ আতঙ্কে দৌড়াতে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনেও ফাটল দেখা গেছে।

যেভাবে প্রাণহানি

সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ভেঙে পাশের বাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাড়ির সানশেড ধসে পড়ে দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তাঁর ছেলে হাফেজ ওমর (৮) ও দুই মেয়েসহ চারজন আহত হন। নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর অবস্থায় দেলোয়ার ও তাঁর ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওমরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান দেলোয়ারও।

ওমরের চাচা জাকির হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্প শুরু হলে দেলোয়ার ওমরসহ সবাইকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে।’

পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫) মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

কাজীরচর নয়াপাড়ার নাসির উদ্দিন (৬৫) ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে স্ট্রোক করেন এবং পরে মারা যান বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

শিবপুর উপজেলার আজকীতলা গ্রামের ফোরকান মিয়া (৪৫) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান শিবপুর মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসাইন।

 

সারাদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের ভিড় দেখা গেছে। তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যান, কেউ বুকে ব্যথা অনুভব করেন, আবার কেউ ভয় পেয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলা ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ জন। পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন সৈয়দ আমীরুল হক শামীম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন এলাকায় ছোট–বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।


আরএস

Tags:
ভূমিকম্প

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!