সারাদেশ

আজ ঝালকাঠি হানাদারমুক্ত দিবস

আপডেট: ডিসে ০৮, ২০২৫ : ০৫:২৪ এএম ২৫
আজ ঝালকাঠি হানাদারমুক্ত দিবস

আজ ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে রক্তপাতহীন অভিযানে পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে শহরটি মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা। দিনটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো বিজয় র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ঝালকাঠি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে। পরদিন ২৭ এপ্রিল হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ ও গানবোটের গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাকবাহিনী শহর দখল করে। তখনকার ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত ঝালকাঠির বাণিজ্যবন্দর পুড়িয়ে দেয় তারা। ব্যাপক লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় শহরজুড়ে চলে গণহত্যা, লুটপাট ও নির্যাতন। শহরের পালবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয় টর্চারসেল; হত্যা করা হয় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে।

৭ ডিসেম্বর বিকেলে ঝালকাঠির উত্তরাঞ্চলে অভিযান শেষে পাকিস্তানি মিলিশিয়া বাহিনী বরিশালে ফেরার পথে কাঠপট্টি চর এলাকায় ২৭–২৮ জনকে নামিয়ে যায়। স্থানীয় জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এতে শহর কার্যত শত্রুমুক্ত হয়ে পড়ে। পরদিন ৮ ডিসেম্বর দুপুরে পাক মিলিশিয়ার অবশিষ্ট সদস্যরা শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বিকাল থেকে শহরে প্রবেশ করতে থাকেন। সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেলিম শাহনেয়াজ থানাকে ঘিরে ফেলেন। পুলিশ অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করলে রক্তপাত ছাড়াই পুরো শহর মুক্ত হয়। একই দিন সাব-সেক্টর কমান্ডার সেকান্দার আলীর নেতৃত্বে আরেক দফা থানাঅবরোধ পরিচালিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবেশের পর শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। রাস্তায় নেমে আসে মানুষ, মুখর পরিবেশে ধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। ঝালকাঠি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, ‘৮ ডিসেম্বর আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় দিন। এই শহরের প্রতিটি ইটে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে এই গৌরবময় ইতিহাস জানতে ও ধারণ করতে হবে।’

 

আরএস

Tags:
ঝালকাঠি হানাদারমুক্ত দিবস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!