পঞ্চগড়ে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে দিনের তাপমাত্রা আবারও কমে গেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি থেকে কমে নেমে এসেছে ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে।
আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল পঞ্চগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। বেলা ১১টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। সড়ক ও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা হিমশীতল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত তিন দিন ধরে তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিকেল থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে।
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রিকশা ও ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক এবং দিনমজুররা। শীতের কারণে কাজে বের হতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে ইজিবাইক ও অটোরিকশাচালকদের আয় কমে গেছে বলে জানান তারা।
জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকার রিকশাচালক বসিরুল ইসলাম বলেন, সকালে ঘন কুয়াশার কারণে কিছুই দেখা যায় না। ভোরে কাজে বের হলে প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগে। দুপুরের পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও সন্ধ্যার পর ঠান্ডায় আর বাইরে থাকা যায় না। প্রতি বছর এই সময় আমাদের আয় কমে যায়, এবারও যাত্রী কম।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার তা ছিল ১২ ডিগ্রি। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি থেকে নেমে ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, জেলায় শীতের তীব্রতা বিবেচনায় ইতিমধ্যে ৮ হাজার ৬৪০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়মিত শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!