সারাদেশ

ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. লিটনের মনোনয়ন বাতিল

আপডেট: জানু ০৩, ২০২৬ : ০৩:৩১ পিএম
ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. লিটনের মনোনয়ন বাতিল

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন রাখাসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

আজ শনিবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই দিনে ময়মনসিংহের চারটি আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের দাখিল করা হলফনামায় তাঁর নামে থাকা একটি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির এই প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-৭ আসনে মনোনয়ন দাখিল করা ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাতের মনোনয়ন বাতিল করা হয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিকভাবে না পাওয়া, হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকা এবং মামলার তথ্য গোপনের কারণে।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয় অঙ্গীকারনামা দাখিল না করা এবং কর্মরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ না করায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল মুনসুরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সঠিক না পাওয়া, আয়কর রিটার্ন ও সম্পদের তথ্য না দেওয়ার কারণে। একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদিনের মনোনয়নও বাতিল করা হয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবদুল কদ্দুসের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের একটি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না থাকায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের মনোনয়ন যাচাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করায় মো. সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ঋণখেলাপি থাকায়। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ রানার সম্পদ ও আয়কর রিটার্নে তথ্য বিভ্রাট এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ থাকায় তাঁর মনোনয়ন যাচাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে একই দিন সকালে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে হলফনামায় সম্পদের বিবরণ না দেওয়ায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী লিয়াকত আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই আসনে আয়কর রিটার্নে আয়–ব্যয় ও সম্পদের তথ্য না দেওয়ায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী হামিদুল ইসলামের মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি এবং আয়কর রিটার্নে আয়–ব্যয়ের তথ্য না থাকায় এবি পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, হলফনামা ও সংযুক্ত কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁরা আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!