সারাদেশ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে

আপডেট: জানু ০৭, ২০২৬ : ০৪:৫০ এএম
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানুষজনের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছে প্রাণিকুলও। জানুয়ারিতে জেলাটির ওপর দিয়ে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ।

পৌষের শেষদিকে এসে জেলার ওপর ঘন কুয়াশার চাদর নেমে এসেছে। উত্তরের হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় দিনের বেলায়ও শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। কাজে বের হলেও পর্যাপ্ত কাজ না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার একতা পাড়ার দিনমজুর নজরুল ইসলাম (৬০) বলেন, “এত কুয়াশা আর ঠান্ডায় কিছুই দেখা যায় না। তারপরও কাজের আশায় বের হই। কাজ কম, পাওয়া যায় না। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে।”

ধরলা নদীর পাড় এলাকার বাসিন্দা সালেহা বেগম (৬০) বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ। এখনো কেউ কোনো কম্বল দেয়নি। এই ঠান্ডায় কীভাবে থাকি, আল্লাহ জানে।”

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও কমছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ঠান্ডার অনুভূতিও বেশি হচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসে জেলাটিতে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!