সারাদেশ

দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল

আপডেট: জানু ০৮, ২০২৬ : ০৫:২৭ এএম
দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন। গতকাল বুধবার এই তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা কয়েক দিন ধরে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। যদিও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছুটা রোদের দেখা মিলেছে, তবু শীতের প্রকোপ পুরোপুরি কাটেনি।

পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গলে বিশেষ করে হাওর ও চা–বাগান এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এসব এলাকার শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে ভুগছেন। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। শীত নিবারণে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই তাঁদের একমাত্র ভরসা।

হাইল হাওর এলাকার বাসিন্দা অলি মিয়া বলেন, ‘এত ঠান্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।’ একই এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ‘ঘরে কম্বল নেই, ঠিকমতো গায়ে কিছু দিতে পারছি না।’

লাখাইছড়া চা–বাগানের শ্রমিক তপন বৈদ্য বলেন, ‘হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে। কয়েকজন মিলে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি।’ চা–বাগানের অনেক শ্রমিক জানান, সরকারি শীতবস্ত্র এখনো পাননি তাঁরা।

তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম জানান, শীতজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করাই বেশি।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শীতের এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!