সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে আরও ১০ দিন

আপডেট: জানু ১১, ২০২৬ : ০৫:৪১ এএম
চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে আরও ১০ দিন

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন এখনও বিপর্যস্ত। সকালবেলা রোদের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে অনীহা প্রকাশ করছে।

আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, জেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। এই অবস্থা আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। এ সময়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও ছিন্নমূল মানুষ। ভোরে কাজে বের হলে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে বলে জানান তারা। অনেক ক্ষেত্রে কাজেও ছেদ পড়ছে।

শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

তীব্র শীত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে যানবাহনে চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।

এক শিক্ষার্থী জানায়, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন শীত এত বেশি যে সেগুলোতে বসে থাকাই কষ্টকর। হেঁটে গেলে শরীর কিছুটা গরম হয়, তবে হাত-পা খুব ঠান্ডা হয়ে যায়।

শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। এর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে প্রভাব। ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল বেলায় ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম থাকে। সাধারণত রোদ উঠলে এরপর কিছুটা বেচাকেনা শুরু হয়। একই কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় লেনদেন কম হচ্ছে।

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!