সারাদেশ

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য: আলী রীয়াজ

আপডেট: জানু ১৯, ২০২৬ : ০২:৩৭ পিএম ১০
ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অপরিহার্য: আলী রীয়াজ

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে গণভোটের প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং গণভোট কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজিত ওই সভায় আলী রীয়াজ বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয়—এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের কাঁধে দিয়ে গেছেন। অতীতের ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা দেশের জন্য কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারি কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে একমত হওয়া গেছে যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা ভিন্ন কথা বলছে, তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি উত্থাপন করছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এই সময়ে কায়েম হওয়া ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন কিংবা গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তারাই আমাদের দুটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন—একটি হলো স্বৈরতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন রোধ করা, আরেকটি হলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা প্রণয়ন। গণভোট সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট ব্যবস্থার ওপর অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট একটি নতুন অভিজ্ঞতা। তাই জনগণকে ব্যালটে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ স্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে। ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে।

অতীতে একক সিদ্ধান্তে সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী একটি কমিটির মাধ্যমে হলেও শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তির ইচ্ছায় বাস্তবায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান যেন আর কখনো ব্যক্তিগত ইচ্ছার খেলায় পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই গণভোট জরুরি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। গণভোট নিয়ে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেগুলো থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান থেকে ধর্মীয় বিষয় বাদ যাবে—এ ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এসব অপপ্রচারের বিপরীতে জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণভোটের মূল প্রশ্ন হলো—আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে আছি কি না। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যে তরুণ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র পথ ‘হ্যাঁ’ ভোট।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া, রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!