বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে তার এবং তার পরিবারের গভীর আবেগ ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।”
রোববার দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।”
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই খাল কাটার উদ্যোগ নিতে চাই। আপনারা কি আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?”
তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান পেয়েছেন। “বিএনপির আমলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।”
নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় থাকবে। দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছেন।”
তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, “ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছরে আপনারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এবার ধানের শীষে ভোট দিন।”
সমাবেশে ভিড়ে চাপা পড়ে দুই কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম রাকিব (২৫)। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশে যোগ দিতে শুরু করেন। দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং রেডিসন ব্লু হোটেলে রাত্রিযাপন করেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে সমাবেশস্থলকে তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!