রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ঝুঁকি মোকাবিলা ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এই আয়োজন করে ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গারিওয়ালা। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় ৫০ জন তরুণ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মাঠপর্যায়ে ই-বর্জ্যের তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস, ঝুঁকি নিরূপণ ও প্রাথমিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। অংশগ্রহণকারী লিজা জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে ই-বর্জ্য সম্পর্কে তার ধারণা আরও পরিষ্কার হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে কাজ করার আগ্রহ বেড়েছে। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা সাঈমুর রহমান বলেন, আগে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তেমন ধারণা না থাকলেও প্রশিক্ষণের পর বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় এতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ‘কোবো কালেক্ট’ (KoboCollect) অ্যাপ ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ে জরিপ পরিচালনা, জিও-ট্যাগিং এবং অনলাইন ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের কৌশল শেখেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন করে সনদ প্রদান করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি জেলায় তথ্যনির্ভর ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিপলা-এর নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ নাঈম। তিনি বলেন, দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব। সঠিক তথ্য ছাড়া কার্যকর পরিকল্পনা সম্ভব নয় এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গারিওয়ালার পরিচালক শেখ শাহরুখ ফরহান বলেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রিসাইক্লিং খাতকে আধুনিক ও সংগঠিত করা জরুরি এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক( প্রশাসন ও অর্থ), আই ই বি ও ত্বোয়া-হা টেক্সটাইলস লিমিটেডর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল বলেন, পরিবেশ রক্ষা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; বরং ইঞ্জিনিয়ার, উদ্যোক্তা ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগেই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে তথ্যনির্ভর উদ্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর জরিপ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ভবিষ্যতে টেকসই ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পথ সুগম করতে পারে। আয়োজকরা জানান, বর্জ্যমুক্ত সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
No comments yet. Be the first to comment!