চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন ১৩ জনকে আটক করেছে এবং ৯টি ড্রেজার জব্দ করেছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলন ও পাইপলাইনের মাধ্যমে কৃষিজমি ভরাট কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
গতকাল সৈয়দপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উপকূলের নির্দিষ্ট স্থানে সীমিতভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিলেও সাগরের ভিতর থেকে উত্তোলন অনুমোদিত নয়। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্দরের শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলন ও জমি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। খাস জমি যথাযথ বন্দোবস্ত ছাড়া ভরাটের সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছিল। বিশেষ করে বড় পাইপলাইনের মাধ্যমে সাগর থেকে বালু তুলে দুই ও তিন ফসলি উর্বর জমি ভরাট করা হচ্ছিল।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃদুল চন্দ্র দাস বলেন, “সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর থেকে সৈয়দপুরের বগাচতর পর্যন্ত শতাধিক ড্রেজার দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে। এতে জেলেরা স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না এবং অনেকের জাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জেলে সাময়িকভাবে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।”
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!