জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের প্রভাব পড়েছে নাটোরের মোটরসাইকেল বাজারে। পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না মেলার কারণে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমেছে। আকর্ষণীয় ছাড় ও উপহার দিলেও বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে চাহিদা বেড়েছে ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক বা ই-বাইকের।
শহরের বিভিন্ন শোরুমে দেখা গেছে, ক্রেতা না থাকায় বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। ভবানীগঞ্জ মোড়ের হিরো অনুমোদিত ডিলার নিউ আলম মটরসের ম্যানেজার সাদ্দাম হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি বাইকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা ছাড় দেওয়া হলেও বিক্রি কমে অর্ধেকে নেমেছে। সাধারণত মাসে ৫০-৬০টি বাইক বিক্রি হয়, ঈদের মাসে তা দ্বিগুণ হওয়ার কথা, কিন্তু এবারের ঈদে মাত্র ৩০টি বিক্রি হয়েছে।
অন্য ব্র্যান্ড যেমন সুজুকি, বাজাজ, টিভিএস ও হোন্ডার শোরুমগুলোতেও একই অবস্থা। হোন্ডার অনুমোদিত ডিলার মেসার্স গণি এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার রুবেল হোসেন বলেন, “লাখ টাকা খরচ করে কেউ তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে চায় না। আমরা নিজেও তেল পাচ্ছি না। ব্যবসার অবস্থা খারাপ, দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, জ্বালানি সংকট ই-বাইকের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ই-বাইক ব্র্যান্ড ইয়াদিয়ার নাটোর বিক্রয়কেন্দ্র এমএম এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ বলেন, “চলতি মাসেই ৭টি ই-বাইক বিক্রি হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ৪টি। তেলের সংকট দীর্ঘ হলে চাহিদা আরও বাড়বে।”
টেইলজি ব্র্যান্ডের বিক্রয় প্রতিনিধি আবির হাসান শুভ বলেন, “ই-বাইক ৬-৭ ঘণ্টা চার্জে ১০-১৫ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৮৫-১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। তেলের বাইকের তুলনায় এটি অনেক সাশ্রয়ী।”
নাটোরে এখনও মোটরসাইকেল নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন স্বাভাবিক রয়েছে। বিআরটিএ নাটোর সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক উত্তম কুমার দেবর্শমা বলেন, “সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়মিত অভিযান চলছে, যাতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হয়।”
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!