সারাদেশ

নেত্রকোণায় হাওরের পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট: মে ০২, ২০২৬ : ০৬:২৭ এএম
নেত্রকোণায় হাওরের পানিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, কংশ ও উপদাখালী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে লোকালয় ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। এতে ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কলমাকান্দা পয়েন্টে উপদাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ০.৮১ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে জারিয়া স্টেশনে কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ১.১০ মিটার ওপরে রয়েছে। খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি থাকায় যেকোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, একদিকে পানি বৃদ্ধি, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারণে ধান কাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় এখনো অর্ধেকের বেশি ফসল মাঠেই রয়ে গেছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত বাঁধ ও নদ-নালার নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় ফসল ডুবে যাচ্ছে। মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর কয়েকজন কৃষক জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের বছরের পরিশ্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর উপজেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার প্রায় ২১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটার মাধ্যমে কিছু ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

এদিকে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারণে ধান কাটায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। পাশাপাশি বজ্রপাতের আতঙ্কেও অনেক শ্রমিক মাঠে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পানি পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ফসল ঘরে তোলার জন্য সচেতন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন—প্রকৃতির প্রতিকূলতা থেকে বাঁচিয়ে ফসল ঘরে তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!