সারাদেশ

গ্রাফিতি অপসারণ নিয়ে চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

আপডেট: মে ১৮, ২০২৬ : ০৪:৫৫ এএম
গ্রাফিতি অপসারণ নিয়ে চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

নগরের টাইগারপাস এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে রোববার রাতে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও স্লোগান দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরের ওয়াসা মোড় থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কয়েকটি পিলারে আঁকা জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন গ্রাফিতি রোববার দুপুর থেকে মুছে ফেলা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি নগরের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করে। রাতের দিকে দলটির নেতাকর্মীরা চসিক কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানধর্মী দেয়াললিখন করেন।

একপর্যায়ে সেখানে ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত কোনো গ্রাফিতি অপসারণে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কোনো নির্দেশনা দেননি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকলেও কোনো শিল্পকর্ম, সামাজিক সচেতনতামূলক বা শিক্ষামূলক গ্রাফিতি অপসারণের বিষয়ে মেয়রের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব গ্রাফিতি শুধু দেয়ালচিত্র নয়, বরং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের স্মৃতিচিহ্ন মুছে সেখানে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বসানোর চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!