বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের অটলতার প্রধান বাধা হলো ভুল মানসিকতা। সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য বা পেশার প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতার অভাব ও জীবনদৃষ্টির অপরিপক্কতা।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবর্তে নিজের সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। বিয়ে মানে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা। কিন্তু যখন স্বার্থ ও স্বাধীনতা সবকিছুর উপরে থাকে, তখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিয়েতে সামাজিক মর্যাদা বা আভিজাত্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে প্রকৃত চাহিদা ও অনুভূতিগুলো চাপা পড়ে যায়। বিয়ের পরও নিজের সুবিধাকে প্রধান্য দেওয়ার মানসিকতা দাম্পত্য জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই আত্মীয়দের কাছাকাছি থাকার পরিবর্তে দূরে সরিয়ে দিতে চান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দুটি গুণ অপরিহার্য— শোকর (কৃতজ্ঞতা) এবং সবর (ধৈর্য)।
শোকর মানে আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। মানুষের জীবনে যতই অভাব থাকুক, আল্লাহ প্রদত্ত সুখ, শান্তি ও সফলতা অপরিমিত।
সবর মানে জীবনের কঠিন সময়গুলোকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে আত্মোন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা।
মুসলিম মনীষীদের জীবনীতে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এক বৃদ্ধ দম্পতি জীবনের শেষ প্রান্তে বলেছিলেন, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার কারণে তাদের দাম্পত্য টিকে ছিল। স্ত্রী বলেছিলেন, ‘শহরের সবচেয়ে সুন্দরী হয়েও আমাকে এমন একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, এতে ধৈর্য ধরেছিলাম’। স্বামী যোগ করেন, ‘এমন একজন সঙ্গী দেওয়ার জন্য আল্লাহর প্রতি সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি’।
অনেক তরুণ-তরুণী ‘পারফেক্ট’ জীবনসঙ্গীর জন্য অপেক্ষা করেন। তবে পুরোপুরি পারফেক্ট কেউ বা কিছু নেই। তাই দাম্পত্য জীবনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য ধারণ করা প্রয়োজন। জীবনের প্রতিটি কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের মাঝেও শেখার সুযোগ থাকে, আর আল্লাহর নেয়ামত সবসময় আমাদের চারপাশে বিদ্যমান।
নিজের সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নৈতিকতা ও আদর্শ ঠিক না থাকা—এই দুটি ‘রোগ’ মুসলিম পরিবারের ভিত ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পরিবার দুর্বল হলে দাম্পত্য সম্পর্কও দুর্বল হয় এবং সমাজও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বিয়ে ও বৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা এবং পরিবারকে সুসংহত রাখা সমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!