ধর্ম

ঠান্ডা সময়ে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত

আপডেট: ডিসে ০৯, ২০২৫ : ০৯:৫১ এএম
ঠান্ডা সময়ে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত

ঠান্ডা সময়ের নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য রয়েছে বিশেষ সুসংবাদ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা সময়ের নামাজ পড়ে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বিষয়ে সহিহ বুখারি ও মুসলিমে হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর স্পষ্ট নির্দেশনা আছে।

হাদিসে যেসব সময়কে ‘ঠান্ডা সময়’ বলা হয়েছে, আলেমরা ব্যাখ্যা করেন—এতে ফজর ও আসরের নামাজ বোঝানো হয়েছে। দিনের এই দুই প্রান্তে তুলনামূলকভাবে আবহাওয়া থাকে শীতল এবং পরিবেশও থাকে শান্ত। তাই এই সময়গুলোকে ‘ঠান্ডা সময়’ বলা হয়। আর এই দুই ওয়াক্ত আদায়কারীর জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ।

ফজর ও আসরের নামাজের বিশেষ ফজিলতের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলেমরা বলেন, এই দুই সময়ে নামাজ পড়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে থাকে। ফজরের সময় গভীর ঘুম, শীতল আবহাওয়া—নফস ও শয়তান মানুষকে বিছানায় ধরে রাখতে চেষ্টা করে। ঘুম ভেঙে জামাতে অংশ নিতে হলে নিজের ওপর জিহাদ করতে হয়। যে এই সংগ্রামে জিতে ওঠে, তার পক্ষেই নিয়মিত ফজর আদায় করা সম্ভব।

একইভাবে আসরের সময় ব্যস্ততা থাকে দিনের নানা কাজকর্মে। কর্মশেষের তাড়া, দুনিয়াবি ক্ষতির ভয়, অসম্পূর্ণ কাজের চাপ—সব মিলিয়ে নফস নামাজ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। শয়তানও যুক্তি দাঁড় করায় নামাজ বিলম্ব করার। এই বাধা অতিক্রম করে নামাজে দাঁড়ানো সম্ভব হয় কেবল সে ব্যক্তির পক্ষেই, যার ঈমান দৃঢ় এবং যার মনে আখিরাত–সচেতনতা প্রবল। আলেমদের মতে, এ দুই ওয়াক্তের নামাজ আদায়ে দুনিয়ার আরাম–আয়েশ ত্যাগ করতে হয়, কখনো আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে। পাশাপাশি নফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে নামাজ আদায় করা—এ কারণেই এই দুই নামাজের সওয়াবও বেশি নির্ধারিত হয়েছে।

আরো বলা হয়, ফজর ও আসর যথাযথভাবে আদায়কারী ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই বাকি তিন ওয়াক্তও নিয়মিত আদায় করে থাকেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে সৃষ্টিকর্তার বিধান মেনে চলায় সহায়তা করে, তাকে অন্যায়–অপরাধ থেকে দূরে রাখে এবং সামগ্রিকভাবে একজন মানুষের জীবনকে শুদ্ধতার পথে পরিচালিত করে।

 

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!