মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা শুরু হয় একজন মায়ের কোল থেকে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম বা অফিসের ডেস্ক নয়, সন্তানের প্রথম পাঠশালা, চরিত্র গঠনের প্রথম কারখানা হলো মা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান গঠনে মায়ের দোয়া ও আদর্শিক জীবনযাপন এক অদৃশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করে। ইসলামী শিক্ষায় সন্তানের জন্য মায়ের দোয়ার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। হাদিসে বলা আছে, “তিনটি দোয়া অবশ্যই কবুল হয়—মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া, এবং সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সন্তানের উপর মায়ের প্রভাব আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, “সন্তানের অন্তর যে পথে বাঁক নেয়, তা নির্ভর করে তার ঘরে উচ্চারিত দোয়া ও কথার ওপর।” শিশুর চোখে দেখা মায়ের নামাজ, ধৈর্য, সততা ও আল্লাহর ওপর ভরসা তার চরিত্র গঠনের মুল স্তম্ভ হয়ে ওঠে।
ইতিহাসে দেখা যায়, ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ও ইমাম বুখারি (রহ.)-এর জীবনেও মায়ের দোয়া ও ত্যাগের ফলশ্রুতিই তাঁদের আলোকিত ব্যক্তিত্বের পেছনে শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
আজকের মা ডিজিটাল আসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সন্তান গড়ছেন। কিন্তু ইসলাম এই প্রতিটি ধৈর্য, প্রতিটি নীরব পরিশ্রমকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। এক মা তার সন্তানের জন্য যত্ন, শিক্ষা ও দোয়া দেয়ার মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন আলোকিত মা মানে একটি আলোকিত প্রজন্ম। তার দোয়া, আদর্শ ও চরিত্রগত শিক্ষাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!