পবিত্র কাবা শরিফ মুসলিম উম্মাহর কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ঘর হিসেবে বিবেচিত। হজ ও ওমরাহ পালনের সময় কাবার গিলাফ (কিসওয়াহ) স্পর্শ করা বা জড়িয়ে ধরার দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির মনে প্রশ্ন থাকে—কাবার গিলাফ চুমু খেলে বা স্পর্শ করলে কি আলাদা সওয়াব পাওয়া যায়?
এ বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে আলেমদের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ভারতের প্রখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, কাবা শরিফের নির্ধারিত কিছু অংশ ছাড়া অন্য অংশে চুম্বন বা বিশেষ ইবাদত হিসেবে স্পর্শ করার কোনো বিধান নেই।
ফতোয়ায় বলা হয়, শুধু হাজরে আসওয়াদ এবং কাবার দরজা বা নির্দিষ্ট কিছু স্থানে স্পর্শ বা চুম্বনের বিধান রয়েছে। এর বাইরে কাবার দেয়াল, কোণ বা গিলাফকে চুমু খাওয়াকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য করা শরিয়তসম্মত নয়।
দারুল উলুম দেওবন্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাবার গিলাফ থাকা অবস্থায় সেটিকে ইবাদতের নিয়তে জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া শরিয়তসম্মত আচরণ নয়। বরং নির্ধারিত সুন্নাহসম্মত আমলগুলো অনুসরণ করাই সঠিক পথ।
তবে কোনো ব্যক্তি ভালোবাসা বা আবেগের কারণে গিলাফের কোনো অংশ স্পর্শ করলে তা সরাসরি নিষিদ্ধ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে গিলাফের আলাদা কোনো টুকরো সংগ্রহে থাকলে সেটি সম্মানসূচকভাবে রাখা বা স্পর্শ করায় আপত্তি নেই বলেও ফতোয়ায় বলা হয়েছে।
আলেমরা বলছেন, কাবা শরিফ জিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত ও নির্ধারিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করা। অতিরিক্ত আবেগে শরিয়ত নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে কিছু করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
সব মিলিয়ে, কাবার গিলাফ স্পর্শ বা চুমু খাওয়াকে বিশেষ সওয়াবের আমল হিসেবে নয়, বরং নির্ধারিত সুন্নাহ ও বিধান অনুসরণের মধ্যেই ইবাদতের পূর্ণতা নিহিত বলে মত দিয়েছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!