চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করলেও চুক্তিপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা চেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাদের দাবি, চুক্তির শর্তাবলি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি লালদিয়া টার্মিনালের জন্য ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও টার্মিনালের জন্য সুইস প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএর সঙ্গে হওয়া চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শুভ হলেও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান কোনো জনসেবার উদ্দেশ্যে নয়, মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই বিনিয়োগ করে। তাই সরকারি পক্ষকেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভক্ষতি ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ে সুনির্দিষ্ট যাচাই-বাছাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বা স্বচ্ছতার রেকর্ডও মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. জামান আরও প্রশ্ন তোলেন, এই চুক্তির ফলে কর্মসংস্থান, অংশীজনের স্বার্থ, বন্দরকেন্দ্রিক স্থানীয় শিল্প ও দেশীয় সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে—এ বিষয়ে কোনো বিশ্লেষণ হয়েছে কি না। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পেছনে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলগত কোনো রূপরেখা থাকলে তা প্রকাশ করার দাবিও জানান তিনি। এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের গতি নিয়েও টিআইবির উদ্বেগ। প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শক সংস্থা আইএফসির অনুমিত ৬২ দিনের বদলে মাত্র দুই সপ্তাহে নেগোসিয়েশন, মূল্যায়ন, বোর্ড সভা, আইন ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। পানগাঁও চুক্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ হলেও লালদিয়ায় ব্যতিক্রম কেন—সেই ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদেশি অপারেটর মুনাফা তুললে রাষ্ট্র সেই বিনিময়ে কী পাবে—এ নিয়ে কোনো কস্ট–বেনিফিট বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়নি। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকির উদাহরণ সামনে রেখে প্রতিকারমূলক শর্তাবলি যুক্ত হয়েছে কি না, তাও জানানো হয়নি। জনস্বার্থের প্রশ্নে এসব তথ্য অবিলম্বে জনসাধারণকে জানাতে হবে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!