বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ৯ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ১৬১ কোটি ডলার বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ নেমে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম–৬ অনুযায়ী ২৭ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।
মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে পাওয়া যায় নিট রিজার্ভ। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ’ নামেও একটি অভ্যন্তরীণ হিসাব রাখে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসডিআর খাতে থাকা অর্থ, ব্যাংকগুলোর বৈবিদেশিক ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট এবং আকুর বিল বাদ দিলে ব্যবহারের উপযোগী রিজার্ভ এখন ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমান আমদানি গতি বিবেচনায় এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
সাধারণভাবে একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মান হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর কোভিড–পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়ের চাপ, বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে রিজার্ভে পতন দেখা দেয়। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে।
রিজার্ভে চাপ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফ–এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে। এর অধীনে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় কিস্তি ছাড় পেয়েছে দেশটি।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!