অর্থনীতি

ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে অনীহা দেখালেই ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট: ডিসে ১৭, ২০২৫ : ০৫:৩৭ এএম
ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে অনীহা দেখালেই ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিংবা নানা কারণে কাগজের নোট ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। তবে দোকানদার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব নোট নিতে অনীহার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ পরিস্থিতিতে ছেঁড়া, পোড়া বা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে জানানো হয়েছে, নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে গ্রাহকেরা নষ্ট হওয়া নোটের বিপরীতে নির্ধারিত হারে অর্থ ফেরত পাবেন। সার্কুলারের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’। আগে ছেঁড়া ও পোড়া নোট বদলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান স্পষ্ট না থাকলেও নতুন প্রবিধানে নোটের কত অংশ অক্ষত থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে তার বিপরীতে পুরো মূল্যমানের অর্থ ফেরত পাবেন গ্রাহক। তবে এর কম অংশ বিদ্যমান থাকলে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী মূল্য প্রদান করা হবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, কোনো নোট দুই খণ্ডে বিভক্ত হলে খণ্ড দু’টি সন্দেহাতীতভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। জমা গ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দু’টির উল্টো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ দিয়ে জোড়া লাগাতে হবে, যাতে আসল নোট শনাক্তে কোনো সমস্যা না হয়। একইভাবে, যেসব জীর্ণ নোট পরীক্ষার সময় নাড়াচাড়ায় আরও ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোর উল্টো পিঠেও হালকা সাদা কাগজ সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, নষ্ট বা পুড়ে যাওয়া প্রচলিত নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা অফিস ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে বদল করে নেওয়া যায়। প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ছেঁড়া নোট বদলের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে পুরো মূল্য পাওয়া যায় না।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নোটের বিনিময় মূল্য পেতে কোনো ব্যাংক শাখায় সমস্যা হলে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। শাখা পর্যায়ে নিষ্পত্তি না হলে আবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান থেকেও সমাধান না হলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হবে। আবেদন পাওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে নোটটির মূল্য প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্য প্রদেয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে অর্থ সমন্বয় করা হবে।

সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় মূল্য প্রদান এবং দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা নিয়মিতভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এ ধরনের সেবা দিতে কোনো ব্যাংক শাখা অনীহা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএস

Tags:
বাংলাদেশ ব্যাংক

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!