রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এর বিপরীতে সরকার অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি। অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে প্রতিবছর সরকার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘থ্রি হুইলার রিকশাকে শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সিপিডির তথ্যমতে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই দেশে তৈরি। তবে এসব যানবাহন মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশের জন্য দায়ী।
অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপক বিস্তার প্রমাণ করে যে, সেবা প্রদানকারী ও ব্যবহারকারী—উভয়ের কাছেই এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে শহরের ভেতরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যান চলাচল করায় যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।
তিনি বলেন, আগে পাড়া-মহল্লায় সীমিত থাকলেও এখন এসব অটোরিকশা প্রধান সড়ক ও মহাসড়কেও চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। যত্রতত্র অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট খালিদ মাহমুদ বলেন, বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হওয়ায় অনেক গ্যারেজ মালিক অবৈধভাবে চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনা করছেন। এর ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ জন্য গ্যারেজ মালিকদের লাইসেন্স ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির একটি সমীক্ষা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনা সভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু, চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং আমদানিকৃত যন্ত্রাংশে কর বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সিপিডি বলছে, এই যানগুলোকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, বরং নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করাই হবে টেকসই সমাধান।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!