অর্থনীতি

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের আয়ের তথ্যে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার গরমিল

আপডেট: ডিসে ২৩, ২০২৫ : ০৫:৩৪ এএম
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের আয়ের তথ্যে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার গরমিল

জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আয়ের তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে আয়ের তথ্যে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার গরমিল রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা কোম্পানিটির স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) একটি বড় অংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হক ভট্টাচার্য দাস অ্যান্ড কোম্পানি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এ মতামত দিয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত তথ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানানো হয়েছে।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে মোট আয় দেখিয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তবে ভ্যাট রিটার্ন অনুযায়ী কোম্পানিটির আয় ছিল ২৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত আয়ের সঙ্গে ভ্যাট রিটার্নের আয়ের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ১ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে।

নিরীক্ষক আরও উল্লেখ করেছেন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১৬৯ কোটি ১ লাখ টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, পদ্মা ব্যাংকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো বর্তমানে তারল্য সংকটে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যাংকে বিনিয়োগের বিপরীতে ৬১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সুদ আয় হিসেবে দেখানো হয়নি, যা কোম্পানিটির আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব এফডিআর নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হলেও তারল্য সংকটের কারণে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে নিরীক্ষক জানিয়েছেন।

নিরীক্ষকের মতে, এসব বিষয় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!