অর্থনীতি

সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ল ২৪ হাজার কোটি টাকা

আপডেট: ডিসে ২৪, ২০২৫ : ০৪:৩৬ পিএম
সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ল ২৪ হাজার কোটি টাকা

২০২৫–২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াল ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, সংশোধিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রাক্কলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমছে। গত বছরের শেষ দিকে যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশে পৌঁছেছিল, সেখানে এখন তা ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অর্থবছর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজস্ব আহরণের গতির বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই–অক্টোবর সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ১ শতাংশ, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ধারা বিবেচনায় নিয়েই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। কর–বহির্ভূত রাজস্ব ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর–বহির্ভূত উৎস থেকে আদায় হবে ২০ হাজার কোটি টাকা।

সংশোধিত বাজেটে মোট সরকারি ব্যয় সামান্য কমানো হয়েছে। আগে নির্ধারিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা থেকে ব্যয় হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। মূল বাজেটে এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় কমেছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং স্থানীয় মুদ্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এই ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।বাজেট বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার কথা তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, সরকার বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে জোর দিচ্ছে। শিক্ষা খাতে বিশেষ করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়ন, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘নারীর উন্নয়ন, তরুণদের সম্ভাবনার ব্যবহার ও স্থানীয় উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা—এসবই দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

 

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!