অর্থনীতি

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে উত্থান অব্যাহত, লেনদেনও বেড়েছে

আপডেট: জানু ০৪, ২০২৬ : ০৩:২৮ পিএম
নতুন বছরে পুঁজিবাজারে উত্থান অব্যাহত, লেনদেনও বেড়েছে

নতুন বছর শুরু হতেই পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলছে। বছরের প্রথম কার্যদিবসে উত্থানের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে রোববার নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। এদিন অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সব সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রায় এক মাস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়েছে।

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে অধিকাংশ কার্যদিবসেই দরপতন ছিল প্রধান প্রবণতা। সে কারণে বছরজুড়েই সূচকগুলো নিম্নমুখী ছিল। এর মধ্যে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বছর শেষে ৩৫১ পয়েন্ট বা ৬.৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসেই সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোববার লেনদেনের শুরু থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। লেনদেনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও জোরালো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।

দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৩টির দাম কমেছে এবং ৪৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৯টির দাম বেড়েছে, ৫৮টির কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৬টির শেয়ার দাম বাড়লেও ৪১টির দাম কমেছে এবং চারটির দাম অপরিবর্তিত ছিল। আর ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৪৪টির কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে।

এর ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আর ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই–৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ পয়েন্টে।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি এসেছে। রোববার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৬৯ কোটি টাকার বেশি। গত ২৫ নভেম্বরের পর এটাই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন।

লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেডের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয় ২৬ কোটি টাকার বেশি। এরপর রয়েছে সিটি ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক। এ ছাড়া সায়হাম কটন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, সোনালী পেপার, যমুনা ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস শীর্ষ লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) উত্থান দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৭ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ৬১টির দর কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!