অর্থনীতি

রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট: জানু ০৬, ২০২৬ : ০২:১১ পিএম
রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে রপ্তানি–সংক্রান্ত ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রপ্তানি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা যাবে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থার আওতায় এখন রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা ও প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। এর মূল লক্ষ্য ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এবং রপ্তানি কার্যক্রমের গতি বাড়ানো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন এবং এর ইলেকট্রনিক প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত সম্পূরক বিধিমালা ই-ইউআরসি অনুসরণ করে ডকুমেন্ট এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্ট এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ)–উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপদ ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মাধ্যমে রপ্তানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়া করতে পারবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, স্থানীয় ও বিদেশি ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ডকুমেন্টের ফরম্যাট ও উপস্থাপনের স্থান নির্ধারণ করে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ডকুমেন্টারি কালেকশন ই-ইউআরসি কাঠামোর আওতায় ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হবে।

আইনগতভাবে যেখানে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস গ্রহণযোগ্য, সেখানে সব ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে। তবে যেখানে এটি গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে টাইটেল ও হস্তান্তরযোগ্য ডকুমেন্ট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাঠাতে হবে, যদিও অন্যান্য নথি ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো যাবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো প্রত্যয়নকৃত ইলেকট্রনিক কপিও সরবরাহ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকৃত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর, ডিজিটাল সাউন্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট অথবা সুইফট বার্তার মাধ্যমে টাইটেল ডকুমেন্টের ডিজিটাল অ্যান্ডোর্সমেন্টের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ তথ্য আদান–প্রদান, যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমিক ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ ব্যবস্থা চালু করতে পারবে এবং পাইলট কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে তা জানাতে হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমবে এবং দেশের ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থা আরও ডিজিটাল ও নিরাপদ কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাবে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!