অর্থনীতি

দুই মাসের আমদানি বিল পরিশোধে রিজার্ভ নেমে এলো ৩২ বিলিয়নে

আপডেট: জানু ০৯, ২০২৬ : ০৩:৪৮ পিএম
দুই মাসের আমদানি বিল পরিশোধে রিজার্ভ নেমে এলো ৩২ বিলিয়নে

দুই মাসের আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বিল বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আকুর বিল পরিশোধের পর দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। আর নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ছিল ২০২২ সালের আগস্ট মাসে, যা দাঁড়িয়েছিল ৪৮ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে। এরপর ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমতে থাকে। সরকার পরিবর্তনের আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শেষে তা নেমে আসে ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রাখে এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে হুন্ডি দমন হওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে রিজার্ভের অবস্থান আবার উন্নতি হয়। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া পরিশোধের পরও রিজার্ভ বর্তমানে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আকু হলো একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ এই ব্যবস্থার সদস্য। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রতি দুই মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানির অর্থ পরিশোধ করে থাকে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!