অর্থনীতি

টানা পাঁচ মাস কমছে রপ্তানি, বড় বাজারেও আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতারা

আপডেট: জানু ১০, ২০২৬ : ০৫:৫৪ এএম
টানা পাঁচ মাস কমছে রপ্তানি, বড় বাজারেও আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতারা

দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প টানা মন্দার মুখে। চলতি অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে পাঁচ মাস ধরে এই খাতে রপ্তানি কমেছে। শুধু তা–ই নয়, পোশাক রপ্তানির প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসহ অন্তত ২৬টি দেশে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে ইউরোপের একাধিক দেশে উল্লেখযোগ্য হারে রপ্তানি কমেছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, ক্রোয়েশিয়ায় রপ্তানি কমেছে সবচেয়ে বেশি—৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে ৩৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি চলতি অর্থবছরে নেমে এসেছে মাত্র ৮ মিলিয়নে। চেক প্রজাতন্ত্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ, ডেনমার্কে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ফিনল্যান্ডে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং জার্মানিতে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ইতালিতে কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, আয়ারল্যান্ডে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং লুক্সেমবার্গে ২৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। রোমানিয়ায় রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং স্লোভেকিয়ায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

ইউরোপের বাইরেও চিত্র তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি সামান্য হলেও কমেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৮৪৩ মিলিয়ন ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ৩ হাজার ৮৩৯ মিলিয়নে।

অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যেও রপ্তানি কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ায় রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, তুরস্কে ২৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, মেক্সিকোতে ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও জাপানেও আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবেই সাময়িকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে এই মন্দা দেখা দিয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে চাহিদা বাড়াতে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরবরাহ চেইন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।’

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!