অর্থনীতি

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানত ফেরতের রূপরেখা জানালেন গভর্নর

আপডেট: জানু ১৬, ২০২৬ : ০২:০৫ পিএম ১৮
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানত ফেরতের রূপরেখা জানালেন গভর্নর

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা অনুসরণ করেই আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, একীভূত ব্যাংকগুলো নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, শরিয়াহ কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে আমানত ফেরত ও মুনাফা বণ্টনসংক্রান্ত একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোনো ব্যাংক উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়লে সে সময়ে মুনাফা বণ্টন করা হবে না। সংশোধিত হিসাবপত্রে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি চিহ্নিত হওয়ায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফা না থাকলেও আমানতকারীদের মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেন গভর্নর। তিনি বলেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমানত থেকে অর্জিত সব সুদ ও বিনিয়োগ রিটার্ন সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। কেউ যদি ১০ বছর আগে আমানত করে থাকেন, তাহলে তিনি ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য মুনাফাসহ তার সম্পূর্ণ অর্থ পাবেন।

গভর্নর জানান, ব্যাংকগুলোর অনিশ্চিত আর্থিক অবস্থার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত রিটার্ন নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একীভূত ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপে ছিল। এরপরও আমানতকারীদের মূল অর্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাময়িকভাবে লোকসান বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বচ্ছ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকে এবং ইসলামী আর্থিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!