অর্থনীতি

বাংলাদেশ ৩৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গঠনের পথে: গভর্নর

আপডেট: জানু ২০, ২০২৬ : ০৫:১৩ এএম ১১
বাংলাদেশ ৩৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গঠনের পথে: গভর্নর

বাংলাদেশ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে এবং শক্তিশালী রিজার্ভ গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) আয়োজনে ‘সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস: ইমপোর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, একসময় দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এতে বোঝা যায়, অতীতে ঋণের অর্থ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে রিজার্ভ শক্তিশালী করে দেখানো হয়েছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের অর্থ ছাড়াই রিজার্ভ শক্তিশালী করার পথে দেশ এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেট বর্তমানে ভালো সময় পার করছে। গত ডিসেম্বর মাসে আমানত বেড়েছে ৬ শতাংশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারকে শক্ত অবস্থানে রাখা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।

পিএমআই সূচক প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, অর্থনীতি বিশ্লেষণে রিয়েল টাইম ডাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ সহজ করেছে পিএমআই। যদিও সূচকটি বাংলাদেশে নতুন, তবে এটি অর্থনীতির বর্তমান চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ উদ্যোগের জন্য এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জকে ধন্যবাদ জানান গভর্নর।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ দেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে পিএমআই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বাংলাদেশেও এই সূচক সরকার ও নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সরকারি ডাটা সাধারণত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে না। কিন্তু পিএমআইয়ের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ায় এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির সক্ষমতা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে মাসিক ভিত্তিতে পিএমআই সূচক প্রকাশ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের পিএমআই ছিল ৫৪ দশমিক ২, যা আগের মাস নভেম্বরে ছিল ৫৪। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, যদিও এই প্রবৃদ্ধি খুব বেশি নয়।

ডিসেম্বর মাসে কৃষি খাতের পিএমআই ছিল ৫৯ দশমিক ৬, উৎপাদন খাতে ৫৮ দশমিক ২, সেবা খাতে ৫১ দশমিক ৮ এবং নির্মাণ খাতে সূচক ছিল ৪৯ দশমিক ৮, যা ওই খাতে সামান্য সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!