অর্থনীতি

সরকারি ঋণের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাজারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন আমীর খসরু

আপডেট: জানু ২০, ২০২৬ : ০৫:০২ পিএম ১৩
সরকারি ঋণের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাজারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন আমীর খসরু

সরকারি ঋণের চাহিদা পূরণে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অতীতে সরকারের প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে অতিমাত্রায় বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। অথচ পুঁজিবাজারকে ব্যবহার করে এই চাপ অনেকটাই কমানো যেত।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড আয়োজিত ‘পোস্ট ইলেকশন ২০২৬ হরিজন: ইকোনমি, পলিটিক্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকারের ঋণনির্ভরতা কমানো সম্ভব। বাংলাদেশে এখনো এই চর্চা কার্যকরভাবে গড়ে ওঠেনি। আগামী দিনে এই ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, এতে অর্থনীতির যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিবর্তে পুঁজিবাজারের ভূমিকা থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো চিত্র দেখা যায়। পুঁজিবাজার কার্যকর না হওয়ায় সরকারকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)সহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষ ঋণ নিতে হচ্ছে।

আমীর খসরু বলেন, উড়োজাহাজ কেনা কিংবা রেলওয়ের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এখন বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। অথচ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা রেলওয়ের মতো সরকারি সংস্থাগুলো মিউনিসিপ্যাল বন্ড বা সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন করতে পারত। সঠিক পরিবেশ তৈরি করা গেলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের বন্ডে আগ্রহী হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে ভিয়েতনাম ও চীন চাপে পড়লেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সফর করলেও নির্বাচিত সরকার না থাকায় তারা বিনিয়োগে যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন হলে বিনিয়োগ পরিস্থিতি বদলাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার এলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর বিশ্বাস ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আস্থাহীনতার কারণে বাজারে অপ্রয়োজনীয় ও ভুল নিয়ন্ত্রণ (ডি-রেগুলেশন) করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, আগামী সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিকে সংকট থেকে বের করে আনা। এ জন্য সংস্কারের বিকল্প নেই। তবে সংস্কার কেমন হবে, তা বাজার থেকেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আনা জরুরি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে যেসব ‘গারবেজ অ্যাকাউন্ট’ দিয়ে হিসাব সাজানো হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। হিসাব সাজিয়ে সমস্যা আড়াল করলে সংকট আরও গভীর হয়, যার প্রতিফলন ব্যাংকিং খাতে স্পষ্ট।

সবশেষে তিনি বলেন, বাজারের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং বাজারকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তা করা গেলে অর্থনীতির অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।

সম্মেলনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন, অর্থনীতিবিদ ও র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি বিদেশি প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন।


আরএস-রাসেল

Tags:
আমীর খসরু

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!