টানা এক মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আবারও চাল আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে এ বন্দর দিয়ে ৩৬টি ট্রাকে মোট ১ হাজার ৪৪৭ টন চাল আমদানি হয়েছে।
বুধবার আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৩০ নভেম্বর ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরের শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরার বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। চাল ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ কম থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহের সময়সীমা এগিয়ে এনে ১৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করায় তালিকাভুক্ত মিলাররা সেখানে চাল সরবরাহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে খোলা বাজারে সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে দামে। তবে আমদানি বাড়লে আবার দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুসা জানান, দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ১৮ জানুয়ারি ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর আমদানিকারকেরা এলসি খুলে চাল আনার প্রস্তুতি নেন। এলসির কপি হাতে পাওয়ার পর বুধবার দুপুর থেকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিন পাঁচটি ট্রাকে ৩৬৭ মেট্রিক টন চাল আসে। পরদিন আরও ৩১টি ট্রাকে চাল আমদানি করা হয়।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসমাইল হোসেন সরদার অ্যালুমিনিয়াম স্টোর, হানেফ এন্টারপ্রাইজ, ইসলামপুর রাইচ মিল, রেজাউল অ্যান্ড সন্স ও জাহাঙ্গীর হোসেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনে মোট ৩৬টি ট্রাকে ১ হাজার ৪৪৭ মেট্রিক টন চাল বন্দরে প্রবেশ করে।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ভারত থেকে নিয়মিত চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং খুব দ্রুতই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!