অর্থনীতি

রপ্তানি বাড়লেও গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে

আপডেট: ফেব ০৩, ২০২৬ : ০৫:২৪ পিএম
রপ্তানি বাড়লেও গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে মাসভিত্তিক রপ্তানি বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় কমেছে। বিশেষ করে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মোট রপ্তানিতে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল সোমবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ৫৫ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা ছয় মাস ধরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কম হলো।

তবে মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসে রপ্তানির ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। অক্টোবরে সেপ্টেম্বরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এরপর নভেম্বরে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে আগের মাস ডিসেম্বরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১১ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির ভিত্তি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্ত ছিল। ফলে চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি হলেও আগের বছরের তুলনায় সামগ্রিক চিত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। যেমন—গত বছরের অক্টোবরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশ, নভেম্বরে ১৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৮ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে প্রায় ৬ শতাংশ।

রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিই সামগ্রিক রপ্তানি কমার প্রধান কারণ। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান প্রথম আলোকে বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমেছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় কিছু ক্রেতা তাদের ক্রয়াদেশ আংশিকভাবে অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে এসব ক্রয়াদেশ আবার ফিরে আসবে।

মোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ কবীর বলেন, পাল্টা শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কভার বেড়ে প্রায় ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির গতি কমেছে। একই সঙ্গে ইউরোপসহ নতুন বাজারে চীন ও ভারতের আগ্রাসী বাণিজ্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইপিবির প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। একক মাস হিসেবে গত জানুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ সময়ে গেঞ্জি জাতীয় পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ।

অন্য খাতগুলোর মধ্যে কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। তবে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি ১৩ শতাংশ, চামড়া ও চামড়া পণ্য ৬ শতাংশ, পাট ও পাটপণ্য ১২ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!