প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর কমে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৯৬ মিলিয়ন বা প্রায় ১৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই লেনদেন হয়। এতে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট–অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪.৫২ বিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডলার কেনার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে দেশের ডলারের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সে সময় প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে একপর্যায়ে ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়। তৎকালীন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১–২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। বিপরীতে, ওই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র প্রায় এক বিলিয়ন ডলার।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়—উভয়ই বেড়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় ডলারের দর নিম্নমুখী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৮.৭৫ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থপাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ১ হাজার ৯৪৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। সে হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২১.৮ শতাংশ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!