অর্থনীতি

অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টাকে চার ব্যবসায়ী সংগঠনের খোলা চিঠি

আপডেট: ফেব ০৭, ২০২৬ : ০৪:৪৩ পিএম ১০
অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টাকে চার ব্যবসায়ী সংগঠনের খোলা চিঠি

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের চারটি ব্যবসায়ী সংগঠন।

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এ ধরনের ধর্মঘট শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বিইএফের সভাপতি ফজলে করিম এহসান, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

ব্যবসায়ী নেতারা চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘জাতীয় অর্থনীতির প্রাণভোমরা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৯৯ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রায় ৭৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে প্রধান রপ্তানি খাত—বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প—গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে বন্দরে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থবির থাকলে আমদানিকারকদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ডেমারেজ চার্জ হিসেবে পরিশোধ করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।

চিঠিতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মত দেন ব্যবসায়ী নেতারা।

তারা জানান, উদ্ভূত সংকট নিরসনে গত এক সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হলে তা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে বলেও তারা সতর্ক করেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!