নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সামান্য বাড়িয়ে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে গতি আনাই এ মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলের এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত তৃতীয় মুদ্রানীতি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান নীতি সুদহার (রেপো) অপরিবর্তিত রেখে ১০ শতাংশে বহাল রেখেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর এ হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছিল। রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে।
নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখলে যে সুদ পায়—স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)—তার সুদহার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকগুলো যেন বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা রেখে বসে না থাকে, বরং তা বিনিয়োগে নিয়ে যায়—এটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য। সে কারণেই এসডিএফ সুদহার কমানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমানো হতে পারে।
নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা বেশি থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। তবে নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকে আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
সরকারি খাতেও ঋণপ্রবৃদ্ধির নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ঋণ নেওয়া হয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতেই এ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!