অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কছাড় মিলবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আপডেট: ফেব ১১, ২০২৬ : ০৬:২৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কছাড় মিলবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানি করলে সেসব পণ্য মার্কিন বাজারে শূন্য সম্পূরক শুল্ক সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্যে শুল্ক কার্যত শূন্য থাকবে, আর বাকি ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক হবে ১৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ সই উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি—প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার। এ বিশাল আমদানি বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনা আরও বাড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য এবং সবচেয়ে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বাজার। বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পণ্য সেখানে রপ্তানি হয়।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রথমে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছিল। সর্বশেষ আলোচনায় তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের প্রায় ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক—এ খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা গেছে, যা বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চুক্তিতে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট নোটিশ দিয়ে সরে আসার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যৎ সরকার যদি মনে করে চুক্তিটি উপযুক্ত নয়, তাহলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে—এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। দেশে মোট চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ তুলা উৎপাদিত হয়, ৯৮ শতাংশই আমদানি করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারে একদিকে মান নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হবে। তিনি জানান, বাণিজ্য ভারসাম্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং ধাতব স্ক্র্যাপ আমদানির কথাও ভাবা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, চুক্তির আওতায় ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’ সুবিধা হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের উৎপাদিত ও সম্ভাবনাময় পণ্যের মধ্যে ওষুধশিল্পের সব এইচএস কোড ও কাঁচামাল এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, প্লাইউড বোর্ডসহ আরও বেশ কিছু পণ্য শুল্কসুবিধার আওতায় এসেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। পরবর্তী আলোচনায় তা ২০ শতাংশে নেমে আসে এবং ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন চুক্তিতে পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ হওয়ায় মোট শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের আশা, নতুন এ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হবে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!