অর্থনীতি

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ৩৮ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি, ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: ফেব ১৭, ২০২৬ : ০৬:৪১ এএম
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ৩৮ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি, ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বন্ড সুবিধার আওতায় টাইলস আমদানি করে রপ্তানি না দেখিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সহযোগী ব্যক্তি এবং একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সালে বন্ড সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত কারখানাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৩ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আনফিনিশড টাইলস ঘোষণা দিয়ে এইচএস কোড ব্যবহার করে মোট ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ টন সম্পূর্ণ প্রস্তুত (ফিনিশড) টাইলস আমদানি করা হয়।

একটি চালান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর স্থগিত করে। পরে নমুনা পরীক্ষা, কাস্টমস ট্যারিফ ব্যাখ্যা ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা পর্যালোচনায় পণ্যগুলো ফিনিশড টাইলস বলে প্রতীয়মান হয়। বন্ড নীতিমালা অনুযায়ী আমদানিকৃত কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে শতভাগ রপ্তানি করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে রপ্তানি দেখায়।

তবে সংশ্লিষ্ট অফডক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ডক ব্যবহার করে কোনো রপ্তানি সম্পন্ন হয়নি। শিপিং এজেন্টদের যাচাইয়ে দেখা যায়, দাখিল করা বিল অব লেডিং তাদের ইস্যু করা নয়। দুজন কাস্টমস কর্মকর্তাও জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সংশ্লিষ্ট চালান তারা পরীক্ষা করেননি এবং প্রদর্শিত স্বাক্ষরও তাদের নয়। বন্ড কমিশনারেটের অডিট প্রতিবেদনে মজুদ গরমিল ও স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা ৪৭ পয়সা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!