রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান Power Grid Company of Bangladesh Limited (পিজিসিবি) ১৩২ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৪টি অগ্রাধিকারমূলক (প্রেফারেন্স) শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এসব শেয়ার বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে ইস্যু করা হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গতকাল এক চিঠির মাধ্যমে এ সম্মতি দেয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে ১ হাজার ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪০ টাকা ইকুইটি হিসেবে নিয়ে ব্যবসা করেছে পাওয়ার গ্রিড। ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত এই অর্থ ‘ডিপোজিট ফর শেয়ার’ হিসেবে জমা ছিল। ওই জমার বিপরীতে নতুন করে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন মিলেছে।
এর আগে ২০২২-২৩ হিসাব বছর পর্যন্ত ‘ডিপোজিট ফর শেয়ার’ হিসাবে জমা থাকা ২ হাজার ৫০৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ টাকার বিপরীতে ২৫০ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৯৭৬টি অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যুর সম্মতি পায় কোম্পানিটি।
আর্থিক চিত্র
চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪৮ টাকা ৩৬ পয়সা।
তবে সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি পর্ষদ। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৬ টাকা ৬৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এনএভিপিএস ছিল ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫ টাকা ১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৩২ টাকা ৬১ পয়সায়।
তবে ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৮ টাকা ৮৯ পয়সা।
শেয়ার কাঠামো
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ার গ্রিডের অনুমোদিত মূলধন ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৯৯১টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, সরকারের কাছে ২২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!