রাজনৈতিক পালাবদলের এক গুরুত্বপূর্ণ দিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়। একই দিনে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে বিএনপি জোট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনেই রিজার্ভ বৃদ্ধির খবর অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভে এই উত্থান এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ডলার। ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনেই এসেছে আরও ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকা ও রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী হয়েছে।
বাজারে ডলারের চাপ কমেছে
রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডলারের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪.৯০ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি মেটানো এবং মুদ্রাবাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন সরকারের জন্য স্বস্তির সূচনা।
অতীতের অস্থিরতা
২০২২ সালে দেশে ডলারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সময় প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় ওঠে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১–২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। একই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে কেনা হয়েছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
সরকার পরিবর্তনের পর অর্থপাচার রোধ ও বৈধ পথে প্রবাসী আয় উৎসাহিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের ফলেই রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে রিজার্ভের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ডলারবাজারে ভারসাম্য রক্ষা করাই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!