পবিত্র রমজান শুরুর প্রাক্কালে রাজধানীর কাঁচাবাজারে লেবুর দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় রোজার অন্যতম প্রয়োজনীয় এই পণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে লেবুর দামে ব্যাপক তারতম্য। ছোট আকারের লেবু হালিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। মাঝারি আকারের হালি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং বড় আকারের হালি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা কিনতে গেলে বড় একটি লেবুর দাম পড়ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
বাড়তি দামের কারণে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাকে এক হালির বদলে দুই-একটি করে লেবু কিনতে দেখা গেছে। এতে খুচরা দরে প্রতি হালির দাম আরও বেশি পড়ছে। একটি লেবু ৪০ টাকা ধরে কিনলে হালিপ্রতি দাম দাঁড়ায় ১৬০ টাকা।
মুগদা বাজারে লেবু কিনতে আসা ভ্যানচালক শিমুল মোল্লা বলেন, পাঁচ বছরের মেয়েটি ইফতারে লেবুর শরবত পছন্দ করে। রমজানের প্রথম দিনে মেয়ের ইচ্ছে পূরণ করতে ৪০ টাকা দিয়ে একটি লেবু কিনতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “একটা লেবুর দামে চারটা ডিম কিনে সংসারের একবেলার বাজার করা যেত।”
ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে রোজা উপলক্ষে চাহিদা বেড়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য না থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে।
দুই সপ্তাহ আগেও মানভেদে হালিপ্রতি লেবুর দাম ছিল ২০ থেকে ৩৫ টাকা। সেই লেবুই এখন সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় চার থেকে ছয় গুণ।
এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতিবছর রমজান সামনে রেখে কিছু পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ান। ক্রেতাদের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পণ্য না কেনার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!