অর্থনীতি

রোজার প্রথম দিনেই খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

আপডেট: ফেব ২০, ২০২৬ : ০৫:১২ এএম
রোজার প্রথম দিনেই খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

পবিত্র রমজান শুরুর দিনেই রাজধানীর খেজুরের বাজারে অস্বস্তি বেড়েছে। ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জনপ্রিয় ‘জাহিদী’ খেজুরের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও মিরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম রোজায় চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন। গত বুধবার যে জাহিদী খেজুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বৃহস্পতিবার তা বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকায়। ভালো মানের জাহিদী ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা গত বছর ছিল ৩৫০ টাকার মধ্যে।

গত বছরের প্রথম রমজানে এই মানের জাহিদী খেজুরের দাম ছিল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা।

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘বস্তা’ খেজুরের দামও দুই দিনের ব্যবধানে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা দুদিন আগেও ছিল ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। গত বছর এ সময় একই ধরনের খেজুর ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় পাওয়া গেছে।

মতিঝিলের একটি দোকানে খেজুর কিনতে আসা মোহাম্মদ বিল্লাল বলেন, ‘গত সপ্তাহে জাহিদী খেজুর ২৮০ টাকায় কিনেছিলাম। আজ ৩৫০ টাকা দিতে হলো। এত দ্রুত দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে যাবে। রোজায় ইফতারে খেজুর রাখা সুন্নত। সেটাও যদি কঠিন হয়ে যায়, তাহলে কষ্টই লাগে।’

বাজারে অন্যান্য খেজুরের দামও বেড়েছে। সুরমা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, বরই ৪৮০ থেকে ৬৫০ টাকা, ছড়া ৫৫৫ থেকে ৬০০ টাকা ও দাবাস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুদাই ৭৫০ থেকে ৮০০, কালমি মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯০০, মাবরুম মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯৫০, সুকারি ৯২০ থেকে ৯৫০, আজওয়া ৯৫০ থেকে ১ হাজার, ইরানি মরিয়ম ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ এবং প্রিমিয়াম মেডজুল ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর পর আমদানি বেড়েছে। ফলে গত বছর তুলনায় এতদিন বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে গত সপ্তাহে থাইল্যান্ড সাগরে বাংলাদেশগামী ১৫০ কনটেইনার খেজুরডুবির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের একাংশ এই গুঞ্জনকে পুঁজি করে দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে খেজুরের চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন। এর মধ্যে রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি খেজুর মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

কনজ্যুমার অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজার তদারকি জোরদার না হলে রমজানজুড়ে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!