অর্থনীতি

সব বৈদেশিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা উচিত: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেট: ফেব ২০, ২০২৬ : ০৫:১৬ এএম
সব বৈদেশিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা উচিত: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বিগত সরকারের করা সব বৈদেশিক চুক্তি নতুন সরকারের পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিদায়ী সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে, যেগুলোর সব বিষয়ে জনসাধারণ অবহিত নয়। তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে এসব চুক্তির শর্ত ও দায়–দায়িত্ব নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন–এ ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানও।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিদায়ী সরকার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাধিক বৈদেশিক চুক্তি করেছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা বা অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে এসব চুক্তি হয়ে থাকতে পারে, যেগুলোর সব তথ্য জনসমক্ষে নেই। নতুন সরকারের উচিত হবে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা—কোনো নিয়ম বা নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে কি না এবং এর ফলে কী ধরনের আর্থিক দায় ভবিষ্যতে বহন করতে হতে পারে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জনতুষ্টিবাদী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংযম না দেখালে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে নতুন সরকার রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে—এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

এক সরকার থেকে আরেক সরকারে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় একটি ‘ট্রানজিশন টিম’ বা উত্তরণকালীন দল গঠনের প্রস্তাব দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এ ধরনের দল আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়–দেনা, চলমান প্রকল্প, ক্রয়চুক্তি ও বৈদেশিক অঙ্গীকারগুলোর স্বচ্ছ মূল্যায়ন করতে পারে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা ব্রিফিং ডকুমেন্ট তৈরি করে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্পষ্ট করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে, তাই বৈদেশিক চুক্তিগুলোও একই সঙ্গে পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা উচিত। এতে ভবিষ্যৎ আর্থিক দায় ও ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!