অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে লেনদেনে চাঙ্গাভাব, সপ্তাহে বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

আপডেট: ফেব ২১, ২০২৬ : ০৪:১২ পিএম
পুঁজিবাজারে লেনদেনে চাঙ্গাভাব, সপ্তাহে বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেনে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকে রেকর্ড উত্থান হলেও পরবর্তী চার কার্যদিবসে কিছুটা সংশোধন হয়েছে। সব মিলিয়ে সপ্তাহ শেষে প্রধান সূচক ও লেনদেন—দুই সূচকেই ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা শতাংশ হিসেবে ১ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্ট।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএক্স প্রায় ২০১ পয়েন্ট বেড়েছিল। তবে এরপর টানা চার কার্যদিবসে সূচক ১৩৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবু সামগ্রিকভাবে সূচক ইতিবাচক অবস্থানে সপ্তাহ শেষ করে।

নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৫৯ পয়েন্ট। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস সামান্য কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে নেমেছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৯৭ পয়েন্ট।

গড় লেনদেনে বড় উল্লম্ফন

গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে এই গড় লেনদেন ছিল ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৩টির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির। ২৪টির কোনো লেনদেন হয়নি।

সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।

খাতভিত্তিক চিত্র

খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাত শীর্ষে ছিল। গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাতের অংশ ছিল ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাত পেয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

রিটার্নের দিক থেকেও অধিকাংশ খাত ইতিবাচক ছিল। কাগজ ও মুদ্রণ খাতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সিরামিক খাতে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে পাট খাতে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। করপোরেট বন্ড খাতে দশমিক ৩৩ শতাংশ ও টেলিযোগাযোগ খাতে দশমিক ২৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

সিএসইতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। সিএএসপিআই সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩৪ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪৩০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে লেনদেন হওয়া ৩২২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৫টির, কমেছে ৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনে গতি ফিরেছে। তবে টানা কয়েক দিনের সূচক সংশোধন বাজারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!