সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–তে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৩১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব কয়েক দিন ধরেই বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছিল। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–র চেয়ারম্যান পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
দিনের শুরুতে প্রথম মিনিটে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বড় পতনের বৃত্তে পড়ে বাজার। একপর্যায়ে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫০ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
তবে সূচক পতনের মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। ডিএসইতে এদিন ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৭৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)–এও একই চিত্র দেখা গেছে। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪১৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে। প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২৭০ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২২৯ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দাম বেড়েছে, ১৫৩টির কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুঞ্জনও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!