অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে কর-প্রণোদনা স্থায়ী সমাধান নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

আপডেট: মার্চ ০৯, ২০২৬ : ০৫:৩৭ এএম
পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে কর-প্রণোদনা স্থায়ী সমাধান নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে কর-প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ স্থায়ী সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তাঁর মতে, পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ার পেছনে আরও গভীর কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।

রোববার রাজধানীর FARS Hotel & Resorts–এ ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন দ্য স্টক মার্কেট’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। পুঁজিবাজার–সংক্রান্ত সাংবাদিকদের সংগঠন Capital Market Journalists Forum (সিএমজেএফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা–বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে শুধু কর-প্রণোদনা দিলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যায় না। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে বাজারের স্থায়ী উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ কর পার্থক্য রয়েছে, যা কম নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গত বছর মূলধনি মুনাফার ওপর কর কমানো হয়েছিল। এতে কয়েক দিন বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে বোঝা যায়, সমস্যাটি কেবল করনীতিতে নয়।

মো. আবদুর রহমান খান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। কেন উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারের বদলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হলে এমন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে, যেগুলো নিয়মিত মুনাফা দিতে সক্ষম। কিন্তু অতীতে অনেক দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, এটি সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত হলেও দেশে এ খাতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন DSE Brokers Association of Bangladesh (ডিবিএ)–এর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ার পেছনে কর কাঠামো অন্যতম বড় বাধা। তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিকে বেশি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মধ্যে থাকতে হয়। তাই তাদের আকৃষ্ট করতে করসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে Bangladesh Merchant Bankers Association (বিএমবিএ)–এর সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, গত দুই বছরে বাজারে কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আসেনি। এ পরিস্থিতি বদলাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর-প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো দরকার।

তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন–এর কমিশনার মো. সাইসুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও যদি প্রণোদনার ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে বুঝতে হবে ব্যবস্থার ভেতরেই সমস্যা রয়েছে। তাই সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে শুধু ইকুইটি মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল না রেখে বন্ড ও অন্যান্য স্থির আয়ের পণ্যের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে বাজার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন Dhaka Stock Exchange (ডিএসই)–এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, Chittagong Stock Exchange (সিএসই)–এর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান এবং Bangladesh Association of Publicly Listed Companies (বিএপিএলসি)–এর সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!