পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতা ও ডিলাররা অঘোষিতভাবে দাম বৃদ্ধি করছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত তেল নেই। কিছু দোকানে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও লিটার প্রতি ৫-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সুপারশপগুলোতে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিক্রয়ের জন্য সীমা (লিমিট) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সুযোগে খোলা সয়াবিন তেলের বিক্রি বেড়েছে। কোনো কোনো দোকানে খোলা তেল প্রতি কেজি ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বোতলজাত তেল বিক্রি করতে পারছেন না। ডিলাররা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাবস্থা, সরবরাহ সীমিত করার কারণ হিসেবে প্রভাব ফেলেছে। ফলে খুচরা বাজারে সরকারি নির্ধারিত দাম অমান্য করে খোলা তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকায় দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম সর্বনিম্ন ২১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকা কেজি। তবে সরকারি সর্বশেষ খুচরা মূল্য ছিল ১৯৫ টাকা প্রতি কেজি। ফলে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম।
এছাড়া কিছু দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্যানোলা তেলের বিকল্প হিসেবে ‘তীর’ ব্র্যান্ডের ক্যানোলা অয়েল ২১০-২১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি মূল্য থেকে সামান্য কম।
বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত দাম ধার্য করা চলতে থাকলে সাধারণ ভোক্তার অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!