জ্বালানি তেলের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দ্রুত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সরকারকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের রেশনিং পদ্ধতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে নতুন সরকার জনগণের সমালোচনার মুখে পড়ছে বলেও দাবি করা হয়।
পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসির কিছু কর্মকর্তা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত করেছেন। সরকারি ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রেখে রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সব ডিপোতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় এবং তেলবাহী জাহাজ জেটিতে অপেক্ষায় থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ মিলছে না। ফলে পাম্পে তেল আসার দুই–তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে ডিলাররা সংকটে রয়েছেন। ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাঙ্কলরি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ডিপোতে এসে মাত্র চার থেকে ছয় হাজার লিটার তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়লেও নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করতে হওয়ায় সেই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের সুযোগ নেই।
মালিক সমিতির মতে, গত ১০–১২ দিনের এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যদি দ্রুত পর্যাপ্ত তেল আমদানি করতে না পারে, তাহলে যেসব ব্যবসায়ীর সক্ষমতা রয়েছে তাদের মাধ্যমে তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে এবং সেই তেল বিপিসিকে সরবরাহ করা যেতে পারে। এতে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!