চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সাত মাস শেষে জানুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি, আর ছয় মাস শেষে ডিসেম্বর পর্যন্ত তা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। কিন্তু এই সময় আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকার বেশি। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৩৬ শতাংশ।
রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্কে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় কম হওয়ায় ১৭ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। ভ্যাট খাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২০ হাজার ৯৩১ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের একক হিসাবেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা দেখা গেছে। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৫১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ে এই ধাক্কার প্রভাব দেশের বাজেট বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!